

শুক্রবার ● ৪ এপ্রিল ২০২৫
প্রথম পাতা » অপরাধ » পাইকগাছায় সাইবার নিরাপত্তা আইনে দুই মামলায় গ্রেফতার ৩
পাইকগাছায় সাইবার নিরাপত্তা আইনে দুই মামলায় গ্রেফতার ৩
পাইকগাছা অনলাইনে জুয়া পরিচালনাকারী সংঘবদ্ধ চক্রের দুই জন এবং বিভিন্ন কাস্টমারের মোবাইল নাম্বার দিয়ে একাউন্ট খুলে অর্থের বিনিময়ে বিক্রি এবং প্রতারণার মাধ্যমে বিভিন্ন ভাতাভোগীদের টাকা উত্তোলন করার অপরাধে একজনসহ ৩ জনকে আটক করেছে থানা পুলিশ। এ ঘটনায় থানায় সাইবার নিরাপত্তা আইনে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। থানা পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, এলাকার সংঘবদ্ধ একটি চক্র দীর্ঘদিন অনলাইনে জুয়া পরিচালনা করার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা অবৈধভাবে হাতিয়ে নিচ্ছিল। চক্রটি ৪ এপ্রিল শুক্রবার ভোররাতে উপজেলার লস্কর ইউনিয়নের লক্ষীখোলা বাজার মোড় সংলগ্ন এলাকায় ওয়ান এক্স বিট অ্যাপস ব্যবহার করে অনলাইন জুয়া খেলার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে অনলাইন জুয়া খেলায় প্রলুব্ধ করে মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে ই- ট্রানজেকশন লেনদেন এর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এমন খবর পেয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সবজেল হোসেন এর নির্দেশে এস আই অমিত দেবনাথ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে কয়রা উপজেলার পাটনীখালী গ্রামের মোস্তফা বিশ্বাসের ছেলে ইউনুস আলী (২৮) ও উপজেলার আলমতলা গ্রামের ফরিদ উদ্দিন মোড়লের ছেলে ফয়সাল আহমেদ (২৬) কে হাতে নাতে আটক করে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ অনলাইনে জুয়া খেলায় ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে।
অপরদিকে উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের দেবদুয়ার গ্রামের আবু হুরায়রা রনি (৩৯) এর কাটাখালী বাজারে ইমাম স্টোর নামে একটি ফ্লেক্সিলড ও কসমেটিকস এর দোকান রয়েছে। ফ্লেক্সিলড ব্যবসার অন্তরালে সে বিভিন্ন কাস্টমারের মোবাইল নাম্বার দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম ও ই মেইল একাউন্ট খুলে অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করে এবং প্রতারণার মাধ্যমে বিভিন্ন ভাতাভোগীর বয়স্ক, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা ও উপবৃত্তির টাকা হাতিয়ে নিয়ে আসছিল। ৩ এপ্রিল এলাকার এক মেডিকেল শিক্ষার্থীর মোবাইল নাম্বার দিয়ে এ কাজ করতে গিয়ে ধরা পড়ে আবু হুরায়রা। শিক্ষার্থীর পিতা কৃষ্ণনগর গ্রামের আব্দুস সামাদ সরদার অভিযোগ করেন ঘটনার দিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিকাশ এবং নগদ একাউন্ট খোলার জন্য মেডিকেল পড়ুয়া মেয়েকে নিয়ে আবু হুরায়রা রনির দোকানে যায়। একাউন্ট খোলার সময় আমার মেয়ের অগোচরে হুরায়রা তার ব্যক্তিগত ই মেইল ব্যবহার করে আলাদা আলাদা দুটি টেলিগ্রাম একাউন্ট খোলে এবং মেয়ের হোয়াটসঅ্যাপ কৌশলে তার মোবাইলে ইনস্টল করে নেয়। পরবর্তীতে বাসায় যাওয়ার পর মেয়ের বান্ধবীরা টেলিগ্রাম একাউন্ট খুলেছে কিনা তার কাছে জানতে চাইলে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হয় এবং এক পর্যায়ে দোকানে গিয়ে এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রথমে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে এবং এক পর্যায়ে গিয়ে আমার মেয়ের হোয়াটসঅ্যাপ একাউন্ট কৌশলে তার নিয়ন্ত্রণে নেয় বলে আবু হুরায়রা স্বীকার করে। এছাড়া মেয়ের পড়াশোনা সংক্রান্ত অনেক গুরুত্বপূর্ণ নোট এবং ডকুমেন্ট ডিলিট করে দেয় বলে অভিযোগ করেন। আবু হুরায়রা অর্থের বিনিময়ে তার সহযোগী একই এলাকার জামাতা রানা গাজীর (২৮)নিকট বিক্রি করে। তারা দুজনে যোগসাজশ করে দীর্ঘদিন এ ধরনের অপরাধ মূলক কাজ করে আসছে বলে শিক্ষার্থীর পিতার অভিযোগ। এ ঘটনায় পুলিশ আবু হুরায়রা রনি কে আটক করেছে। এ ব্যাপারে থানার ওসি সবজেল হোসেন জানান, পৃথক ঘটনায় সাইবার নিরাপত্তা আইনে থানায় আলাদা আলাদা দুটি মামলা হয়েছে। অনলাইনে জুয়া পরিচালনা চক্রের দুই জনের আটকের ঘটনায় থানার এসআই অমিত দেবনাথ বাদি হয়ে আটক ইউনুস ও ফয়সালসহ ১৫/২০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে একটি মামলা করেছে। মেডিকেল শিক্ষার্থীর মোবাইল নাম্বার দিয়ে একাউন্ট খুলে অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করার ঘটনায় বিষয়টি পুলিশের নজরে আসলে আবু হুরায়রা রনি কে আটক করা হয়। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীর পিতা আব্দুস সামাদ বাদি হয়ে আবু হুরায়রা ও রানা গাজী সহ ২/৩ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে অপর আরেকটি মামলা করেছে। ওসি সবজেল হোসেন বলেন, আসামিদের রিমান্ড আবেদন চেয়ে শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।